গ্যাস্ট্রিকের হারবাল ঔষধ: প্রাকৃতিক উপায়ে স্বস্তি পাওয়া যায়?

গ্যাস্ট্রিকের হারবাল ঔষধ: প্রাকৃতিক উপায়ে স্বস্তি পাওয়া যায়? | Ruhani Bazar

আজকাল বাংলাদেশে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা যেন প্রায় প্রতিটি ঘরে ঢুকে পড়েছে। অফিসের ব্যস্ততা, রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামে আটকে থাকা, রাত করে খাওয়া, মশলাদার খাবারের লোভ – এসবের ফলে পেটের অস্বস্তি অনেকেরই নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। অনেকে এখন গ্যাস্ট্রিকের হারবাল ঔষধের দিকে ঝুঁকছেন, কারণ এগুলো প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি এবং দীর্ঘমেয়াদি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ভয় কম। আজ আমরা কিছু সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দেব যা গ্যাস্ট্রিক নিয়ে সবাই মনে মনে করে থাকেন।

গ্যাস্ট্রিক আসলে কী এবং কেন এত বেশি হচ্ছে?

গ্যাস্ট্রিক বলতে সাধারণত পাকস্থলীতে অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়া বোঝায়, যাকে চিকিৎসায় বলে hyperacidity। এর ফলে বুক জ্বালা, পেট ফাঁপা, অজীর্ণ – এমন অনেক উপসর্গ দেখা দেয়। বাংলাদেশে এই সমস্যা বেশি হওয়ার পেছনে আমাদের জীবনযাত্রাই মূল কারণ। ঢাকা-চট্টগ্রামের মতো শহরে দিনের বেশিরভাগ সময় রাস্তায় কাটে, খাওয়ার সময় থাকে না। ফলে অনেকে সকালে খালি পেটে চা-কফি খান, দুপুরে ফাস্ট ফুড বা বাইরের তেল-মশলাদার খাবার খেয়ে নেন। এসব অভ্যাস পাকস্থলীর স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে দেয়।

শীতকালে তো আরও সমস্যা বাড়ে। ফেব্রুয়ারি মাসে ঠান্ডা-শুষ্ক আবহাওয়ায় অনেকে পানি কম খান, খাবারে তেল-চিনি বেশি যোগ করেন। পিঠা-পুলি, ভাজাপোড়া খাওয়ার মৌসুম চলছে – এগুলো সুস্বাদু হলেও হজমে ভারী। ফলে গ্যাস্ট্রিকের অভিযোগ আরও বাড়ে।

গ্যাস্ট্রিকের লক্ষণগুলো কীভাবে বুঝবেন?

প্রথম লক্ষণ হলো বুকের মাঝখানে জ্বালাপোড়া। খাওয়ার পরপরই যেন আগুন জ্বলে ওঠে। তারপর পেট ফুলে ওঠা, ঢেকুর ওঠা, মুখে তিতা স্বাদ – এসব খুব পরিচিত। অনেকের রাতে ঘুম ভেঙে যায় অ্যাসিড উঠে মুখে চলে আসার কারণে। কারো কারো কোষ্ঠকাঠিন্য বা পাতলা পায়খানাও হয়। যদি এসব লক্ষণ সপ্তাহে দু-তিন দিনওে দেখা যায়, তাহলে বুঝতে হবে সমস্যা গুরুতর।

সাধারণ ঔষধ খেলে কি সমস্যা হয়?

অনেকে দোকান থেকে অ্যান্টাসিড ট্যাবলেট কিনে খান। প্রথমে আরাম লাগে, কিন্তু দীর্মেয়াদে খেলে শরীরের প্রাকৃতিক অ্যাসিড নিঃসরণ কমে যায়। ফলে হজমশক্তি দুর্বল হয়, পুষ্টি শোষণ কমে, এমনকি কিডনি-লিভারেও চাপ পড়ে। এজন্য অনেকে এখন natural medicine for gastric খুঁজছেন, যা শরীরের সঙ্গে মানিয়ে চলে।

হারবালাল ঔষধ বা গুঁড়া কীভাবে সাহায্য করে?

হারবাল উপাদানগুলো পাকস্থলীর প্রদাহ কমায়, অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ করে এবং হজমশক্তি বাড়ায়। যেমন আদা, পুদিনা, মৌরি, এলাচ – এগুলো শত শত বছর ধরে আমাদের রান্নাঘরে ব্যবহার হয়ে আসছে। এগুলো দিয়ে তৈরি গ্যাস্ট্রিকের গুঁড়া নিয়মিত সেবন করলে পেটের অস্বস্তি ধীরে ধীরে কমতে থাকে। এতে কোনো কঠোর কেমিক্যাল থাকে না, তাই শরীর সহজে গ্রহণ করে।

অনেকে Ruhani Bazar-এর Ruhani GastroCare নামের হারবাল গুঁড়াটি ব্যবহার করছেন। এটি প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি এবং অনেকের কাছে পেটের সমস্যায় আরামদায়ক বলে প্রতীয়মান হয়েছে। 

গ্যাস্ট্রিক কমাতে কী কী করবেন?

সবচেয়ে বড় কথা – খাওয়ার সময় ঠিক করুন। দিনে তিনবেলা নিয়মিত খান, ছোট ছোট অংশে। খাওয়ার পরপর শুয়ে পড়বেন না, অন্তত আধ ঘণ্টা হাঁটাহাঁটি করুন। খালি পেটে চা-কফি কমান। তেল-মশলা কমিয়ে সেদ্ধ, হালকা খাবার বেশি খান। কলা, দই, ভাত, সবজি – এগুলো পেটের জন্য ভালো। পানি দিনে ৮-১০ গ্লাস খান। স্ট্রেস কমাতে হালকা হাঁটা বা যোগা করুন।

কিছু প্রশ্ন এবং উত্তরঃ

১. গ্যাস্ট্রিকের হারবাল ঔষধ কতদিন খেলে আরাম পাওয়া যায়?
প্রত্যেকের শরীর আলাদা। সাধারণত নিয়মিত সেবন ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস করে ২-৪ সপ্তাহের মধ্যে উন্নতি দেখা যায়। তবে তীব্র সমস্যা থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

২. শীতকালে গ্যাস্ট্রিক বেশি হলে কী করব?
শীতকালে পানি কম খাওয়া ও ভারী খাবারই মূল কারণ। গরম পানি বেশি খান, আদা চা নিয়মিত পান করুন এবং পিঠা-ভাজাপোড়া একটু কমিয়ে দিন।

৩. গর্ভাবস্থায় গ্যাস্ট্রিকের গুঁড়া খাওয়া যাবে কি?
হারবাল হলেও গর্ভাবস্থায় কোনো ঔষধ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া খাবেন না। অনেক হারবাল উপাদান নিরাপদ, কিন্তু ব্যক্তিগত অবস্থা বিবেচনা করতে হবে।

৪. অ্যালোপ্যাথি ঔষধের সঙ্গে হারবাল ঔষধ খাওয়া যাবে কি?
যাবে, তবে দুটোর মাঝে অন্তত ১ ঘণ্টা গ্যাপ রাখুন।

৫. গ্যাস্ট্রিক পুরোপুরি সারানো সম্ভব কি?
সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রা দিয়ে অনেকেরই সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকে। তবে পুরোপুরি সারানোর জন্য মূল কারণ (যেমন হেলিকোব্যাক্টর ইনফেকশন) থাকলে সঠিক পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

গ্যাস্ট্রিক কোনো অসুখ নয় যা রাতারাতি চলে যাবে, কিন্তু সচেতনতা ও প্রাকৃতিক পদ্ধতি দিয়ে এটিকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং সম্পূর্ণভাবে সারিয়েও তোলা যায়। Ruhani Bazar-এর মতো জায়গা থেকে ভালো মানের হারবাল পণ্য নিয়ে নিয়ম মেনে চললে জীবন অনেক সহজ হয়ে ওঠে। সুস্থ থাকুন, সচেতন থাকুন।